পুলিশ শহরের সব রাস্তায় খুজে দেখেছে কিন্তু কোথাও কিছু খুজে পায়নি। আর মেঘার উপরও নজর রাখছে কিন্তু তেমন কিছু দেখতে পায়নি
পুলিশ ভাবছে মেঘা হয়তো খুন গুলো করছে না তাহলে ও কেনো মেঘার নামে এটা বলবে? তাহলে কি ও ইচ্ছা করেই এমনটা করছে আর খুনগুলো করছে। আর ও তো কিছুদিন আগে মানসিক ডাক্তারের কাছেও গিয়েছিলো।
ও মেঘার নামে এটা বলেছিলো যাতে আমরা মেঘাকে সন্দেহ করি আর ও খুনগুলো করতে পারে। ও একজন পুলিশ অফিসারের ছেলে কোনো শক্ত প্রমান ছাড়া ওকে জিগ্গাসাবাদ ও করতে পারবো না
মেঘার উপর পুলিশের আর কোনো সন্দেহ নেই তাই মেঘাকে নজরবন্দিও বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। এখন ওর উপরে সার্বক্ষনিক নজর রাখবে
-- স্যার ও কেনো ওর বন্ধুদের খুন করবে?
-- এরা কোনো কারন ছাড়াই খুন করে শুধু মাএ মানসিক প্রশান্তির জন্য
-- স্যার এখন পর্যন্ত তো আমরা এটাও জানি না যে খুনগুলো কে করছে? কোনো ছেলে না মেয়ে
-- আশা করি খুব তাড়াতাড়ি জানতে পারবো
বাসায় একা একা বসে আছি। বাইরে বের হতেও ভয় করছে। আমার চারজন বন্ধু খুন হলো পুলিশ বলছে এসব কোনো সাইকো কিলারের কাজ আর খুনিকে এখনও পর্যন্ত ধরা যায়নি
কিন্তু আমি তো জানি এসব ওই মেঘা মেয়েটা করছে। আমার কথা কেওই বিশ্বাস করছে না। সবাই ভাবছে আমি ভুল কিছু দেখেছি। না এভাবে আর বসে থাকা যাবে না আমি নিজে ওই মেয়েটার কাছে জিগ্গেস করবো ও কেনো এসব করছে
কলেজে গিয়ে মেয়েটাকে খুজতে লাগলাম। কিছুখন পর দেখলাম মেয়েটা তার বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছে। আমার বন্ধুদের সবাইকে খুন করে এখানে বসে আড্ডা দেওয়া হচ্ছে। ওর কাছে গিয়ে বললাম,
-- তুই কেনো করছিস এসব?
-- সরি, কে আপনি? আর কিসের কথা বলছেন?
-- দেখ আমার সাথে তোর এই অভিনয় করবি না সত্তি করে বল কে তুই? কেনো আমার বন্ধুদের খুন করেছিস?
-- আপনার মাথা ঠিক আছে? কিসব বাজে কথা বলছেন? আমি না আপনাকে চিনি আর না আপনার বন্ধুকে চিনি। আপনি এখনই এখান থেকে যান তা না হলে আমি প্রিন্সিপ্যালের কাছে বলতে বাধ্য হবো
-- তুই যতই অভিনয় করিস না কেনো একদিন ঠিকই সত্তিটা সবার সামনে আসবে। ওইদিন রাতে তুই আমার কাছে এসেছিলি একজন পতিতা হয়ে তারপর তোর রুমে একটা বক্স দেখতে পাই আমি আর সেটাতে অনেকগুলো মানুষের মাথা দেখতে পাই আমি। আমি ভয় পেয়ে সেখান থেকে চলে আসি আর তার পরেরদিন তুই আমাদের কলেজে ভর্তি হলি তারপর থেকেই আমার বন্ধুরা সবাই একে একে খুন হচ্ছে
মেঘা থাপ্পর দিলো ছেলেটাকে। কিসব বাজে কথা বলছে ওর নামে ছেলেটা। আর ছেলেটাকে ও এর আগে কোথাও দেখেওনি। মেঘা প্রিন্সিপ্যালের কাছে গেলো তাকে সবকিছু বললো।
প্রিন্সিপ্যাল ছেলেটাকে ডাকলো ছেলেটার যারা পরিচিত তারা বললো, স্যার লাস্ট কিছুদিন ধরেই ও মানসিক সমস্যায় ভুগছে। সবার সাথেই বলে একটা মেয়েকে ও দেখেছে আজকে যেমনটা তার সাথে হলো। ও নিয়মিত চিকিৎসাও নিতেছে।
পুলিশ ওর উপর নজর রাখছে তাই আজকের ঘটনাও পুলিশের নজর এড়ায়নি। পুলিশ কিছুটা বুঝতে পারছে ও কেনো মেঘার নামে এসব বলেছিলো। মানসিক সমস্যার কারনেই হয়তো বলেছিলো।
খুনি হয়তো অন্য কেও। পুলিশ আপাতত এই দুজনকে সন্দেহ লিস্ট থেকে বাদ দিলো। নিখোজ হওয়া ছেলেটারও কোনো খোজ- খবর পাওয়া যায় নি।
আমি প্রিন্সিপ্যালের রুমে বারবার বলার চেষ্টা করতেছি আমি ভুল কিছু দেখিনি কিন্তু কেও আমার কথা শুনতেছে না। মেয়েটা এমন নিখুত অভিনয় করতেছে যে, কেও বুঝতে পারতেছে না ও খুনি। আমাকেই কোনো প্রমান খুজে বের করতে হবে ওর জন্য আমার বন্ধুরা মারা গেছে ওকে এমনি এমনি ছেড়ে দিবো না
পুলিশের কাছে একটা পার্সেল এসেছে কিন্তু কে, কোথা থেকে পাঠিয়েছে তা কিছু লেখা নেই। পুলিশের খুবই কৌতুহল হলো। তারা ভাবছে কে কেনো এটা পাঠালো? পার্সেলটা খুলে সবাই থমকে গেলো কারন পার্সেলটার ভিতরে একটা মানুষের মাথা রয়েছে।
ওর যেই চারজন বন্ধু খুন হয়েছে তার ভিতরে কোনো একজনের হবে। পুলিশ বুঝতে পারলো না এটা তাদের কাছে কেনো পাঠালো? তারা এটা গোপন রাখার চেষ্টা করলো। কারন সাইকো খুনিরা চায় সবজাগায় তাদের চর্চা হোক। যদি তেমনটা না হয় তাহলে হয়তো রেগে গিয়ে তারা কোনো ভুল করবে
চলবে---


0 Comments