রাতের অতিথি | পর্ব-০৬ | রবিআল ইসলাম


পুলিশ মা'থা'টা ফরেনসিকে পাঠালো। আর এই পার্সেল কোথা থেকে আসলো তা খুজে বের করার চেষ্টা করতেছে। পুলিশ কুরিয়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করলো কিন্তু কোনো তথ্য খুজে পেলো না


এভাবে ৫ দিনে পুলিশের কাছে ৫টা পার্সেল আসে আর সবগুলাতেই মা'থা,হাত- পা পাওয়া গেছে যেই খু'ন গুলা আগে করা হয়েছে। পুলিশ কিছুতেই বুঝতে পারছে না এসব কে করছে। আর নতুন কোনো খু'নও হয়নি এর ভিতরে।


-- মেঘা মেয়েটাকে প্রতিদিন অনুসরন করি কিন্তু তেমন কিছু খুজে পাইনি। তবে মেয়েটা প্রতিদিন কারও দেখা করতে যায়। কার সাথে দেখা করে সেটা জানতে পারিনি। আজকেও ওর পিছু নিয়েছি যে করেই হোক আজকে জানতে হবে যে ও কার সাথে কথা বলে


ও একটা বাড়ির ভিতর গেছে আমিও ওর পিছু পিছু গেলাম। কিছুখন পর একটা মুখোশ পরা লোক আসলো মেঘা ওই মুখোশ পরা লোকটার সাথে কি নিয়ে যেনো কথা বলছে তবে মেঘাকে খুবই চিন্তিত লাগছে 


মেঘা আর মুখোশ পরা লোকটা একে- অপরের সাথে কথা বলছে


-- কেও দেখেনি তো?


-- না কেও দেখে নি। পুলিশ এখন আমাকে সন্দেহ করে না। কিন্তু বুঝতে পারছি না ওই ছেলেটা কোথা থেকে আসলো ওর জন্য আমাদের পরিকল্পনা নষ্ট হয়ে যাচ্ছিলো


-- ও একটা বোকা। ও ভাবে ওর মানসিক সমস্যা আছে কিন্তু আসলে সেরকমটা কিছুই নয়। তবে যাইহোক ওর জন্য আমাদের আরও ভালো হয়েছে পুলিশ আমাদের উপর সন্দেহ করেনি


-- আর তুমি এই সুযোগটা আরও ভালো করে কাজে লাগিয়েছো বাবা। ও যখন তোমার কাছে গেলো তখন তুমি ওরে বললে যে, ওর মানসিক সমস্যা আছে আর ও এটাই বিশ্বাস করলো


-- আমরা তো শুধু ওদের কি'ড'ন্যা'প করেছি তারপর টাকা দিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে খু'ন গুলো করিয়েছি


-- সে কে বাবা?  আমি তাকে দেখতে চাই


-- আমিও তাকে এখন পর্যন্ত দেখে নি। যতবারই তাকে দেখতে চেয়েছি ততবারই সে বলেছে, এখনও সময় হয়নি


যখনই মুখোশধারী তার মুখটা দেখালো আমি অবাক হয়ে গেলাম এই ডাক্তার মেঘার সাথে কি করে? তাহলে কি সেও এর সাথে জড়িত। 


পুলিশের কাছে এসে সবকিছু বললাম। কিন্তু তারা আমার কথা বিশ্বাস করতেছে না। আমি তাদেরকে বললাম, ওই মানসিক ডাক্তারের সাথে মেঘার কোনো সম্পর্ক আছে আর মেঘাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সত্যিটা সামনে আসবে


হঠাৎ একজন এসে বললো,


-- স্যার এই ভিডিওটা দেখেন


তারা দেখতে পেলো সর্বশেষ যেই ছেলেটার মা'থা পুলিশ পেয়েছিলো মেঘা রাতে তার সাথে একিই গাড়িতে। তারপরই ছেলেটা নিখোজ। তারমানে ছেলেটা মেঘার সাথে ছিলো আর মেঘাই ওকে খু'ন করেছে  


পুলিশ মেঘাকে গ্রেফটার করে রি'মা'ন্ডে নিলো।


-- কেন খু'ন করেছিস ছেলেগুলোকে?


--- আমি খু'ন করিনি


মেঘাকে থা'প্প'র মেরে বললো, আমরা সবজানি ভালো হয় তুই সবকিছু স্বীকার করে নে। তুই যদি কিছু না জানিস তাহলে ছেলেটার সাথে কি করছিলি তখন। ছেলেটা নিখোজ হওয়ার আগে তোর সাথে ছিলো


মেঘা ভিডিওটা দেখে থমকে গেলো।


-- কি হলো চুপ করে আছিস কেন? তোর জন্য আরও একটা সারপ্রাইজ আছে


ওই ডাক্তারকে নিয়ে আসা হলো মেঘা এর জন্য একদমই প্রস্তুত ছিলো না। মেঘার বাসা থেকে খু'নে'র হাতিয়ার উদ্ধার করেছে তাতে মেঘা আর মেঘার বাবার হাতের ছাপ পাওয়া গেছে 


--- কেন খু'ন গুলো করলে?


মেঘার বাবা বললো, আমরা করিনি তবে দেখেছিলাম। এতে আমি প্রশান্তি পাই


-- আর কোন মিথ্যা কথা শুনতে চাই না। এখন জেলের ভিতর থেকে আরও প্রশান্তি পাবে


পুলিশের উপর অনেক চাপ ছিলো অবশেষে তারা সফল হলো


চলবে---

Post a Comment

0 Comments